মুকসুদপুর জলিলপাড়ের ‘বৌদির সিঙ্গারা’: হালাল-হারাম নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা
লুৎফর সিকদার, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ব্যস্ততম জলিলপাড় বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত জনপ্রিয় একটি খাবার দোকানের নাম বৌদির দোকান’। এই দোকানে মুরগির মাংস দিয়ে তৈরি সুস্বাদু সিঙ্গারা প্রতি পিস মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। সুলভ মূল্যে সুস্বাদু এই নাস্তা পাওয়ার কারণে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় দোকানটিতে নানা বয়সি মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তবে সম্প্রতি এই সিঙ্গারা ঘিরে সাধারণ ক্রেতা ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে হালাল-হারাম নিয়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকানটির স্বত্বাধিকারী সনাতন ধর্মাবলম্বী। দোকানটিতে যে মুরগির মাংসের সিঙ্গারা বিক্রি করা হয়, তার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মুরগিগুলো তাঁর নিজস্ব ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে জবাই করা হয় এই ধারনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রেতাদের একটি অংশের মনে সিঙ্গারার হালাল হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করছেন।
ইসলামী নিয়মে পশু বা পাখি জবাইয়ের সময় মহান আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হয় এবং তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই উৎসর্গ করা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রাণী যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়, তবে তা মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ হিসেবে গণ্য হয়।
তবে ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, মাংসটি হালাল বা হারাম তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মুরগিগুলো কীভাবে এবং ঠিক কোন পদ্ধতিতে বা কার নামে জবাই করা হয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা আবশ্যক। উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ঢালাওভাবে কোনো মন্তব্য করা বা গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সব মিলিয়ে, জলিলপাড়ের এই ‘বৌদির সিঙ্গারা’ মুসলিমদের জন্য খাওয়া শরিয়তসম্মত হবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন ক্রেতারা মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক বিতর্ক না বাড়িয়ে বরং জবাইয়ের সঠিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।