উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামে নাগরিক গোলটেবিল কথা বলবেন ভোলার- মাকসুদ
জেলা প্রতিনিধি :ইমন রহমান
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; বরং এটি বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় বাস্তবতা ও মানবিক চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এমন বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বন্যা-পরবর্তী কার্যকর করণীয় নির্ধারণে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনসচেতনতা।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এশিয়ান নারী ও শিশু অধিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা সভা ২০২৬’। আগামী ১৪ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার বিকেল ৩’টায় চট্টগ্রামের জামাল খানস্থ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এ নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
আলোচনা সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তা, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিকদের করণীয়সহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত ভূমিকার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা সভায় সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভোলার পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানবতার বন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মোঃ মাকসুদুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত মাকসুদুর রহমান জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সংকটকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরবেন।
এ বিষয়ে মোঃ মাকসুদুর রহমান এক মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন আমাদের চোখের সামনে দৃশ্যমান। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। শুধু দুর্যোগের সময় ত্রাণ দেওয়াই যথেষ্ট নয়; দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৃহৎ সংকট কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। নাগরিক গোলটেবিলের মতো আয়োজন থেকে বাস্তবভিত্তিক সুপারিশ ও কার্যকর উদ্যোগ বেরিয়ে আসবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
মাকসুদুর রহমান বিশ্বাস করেন, “মানবিকতা ও পরিবেশ—দুটিই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গড়ে তুলতে হলে আমাদের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পৃথিবী রেখে যাওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।”
আয়োজকদের প্রত্যাশা, নাগরিক গোলটেবিল আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা এবং দুর্যোগ-সহনশীল সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজন নাগরিক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।