১১ দিনের ফুটফুটে শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল হামের উপসর্গ: নীলফামারীতে শোকের ছায়া
শহিদুল প্রতিবেদক, নীলফামারী | ৫ এপ্রিল ২০২৬
পৃথিবীর আলো দেখার মাত্র ১১ দিন। এখনো হয়তো ঠিকমতো চোখ মেলে মা-বাবার মুখটা চিনে উঠতে পারেনি ছোট্ট আফরিন জান্নাত। কিন্তু এক মরণঘাতী অসুস্থতা অকালেই কেড়ে নিল সেই নিষ্পাপ প্রাণ। নীলফামারীর ডিমলায় হামের উপসর্গ নিয়ে মাত্র ১১ দিন বয়সেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে শিশুটি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের খগারহাট এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের আদরের কন্যাসন্তান ছিল আফরিন। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হঠাৎ তার শরীরে হামের তীব্র উপসর্গ দেখা দিলে স্বজনেরা তাকে দ্রুত ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে থাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন, কিন্তু শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছোট্ট জান্নাত। মাত্র ১১ দিনের এই সংক্ষিপ্ত জীবন প্রদীপ নিভে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
”গতকাল যখন শিশুটিকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়, তখনই তার শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ ছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় আমরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করি। সেখানে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে রাত দেড়টার দিকে আমরা তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত হই।”
আফজালের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন বাকরুদ্ধ। একটি হাসিখুশি পরিবেশ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের ক্ষেত্রে এমন উপসর্গ দেখা দিলে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।
নবজাতক ও শিশুদের যেকোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরামর্শ নিন। আপনার সচেতনতাই বাঁচাতে পারে একটি মূল্যবান প্রাণ।