ডিমলায় তেলের জন্য হাহাকার: পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডিপো খুলে শূন্যতা প্রমাণ করলেন পাম্প মালিক নিজে
আব্দুল হালিম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলায় আলম ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিয়ে বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ নজিরবিহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে শত শত মোটরসাইকেল আরোহীর ক্ষোভ, পুলিশের বিরুদ্ধে লাইন ভঙ্গের অভিযোগ এবং সবশেষে পাম্প মালিকের শূন্য ডিপো প্রদর্শনের মাধ্যমে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
ভোর থেকেই আলম ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে ভিড় করেন এনজিও কর্মী, বিমা প্রতিনিধি, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী সাধারণ জনগণ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
৩-৪ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার পর হঠাৎ পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উপস্থিত জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
তেল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণার পরপরই লাইনে থাকা সাধারণ মানুষ অভিযোগ তোলেন—পাম্প কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ যোগসাজশ করে সাধারণদের বঞ্চিত করছে এবং পুলিশ সদস্যরা লাইন ভেঙে তেল নিচ্ছিলেন । এ সময় এক আরোহীকে ঘটনার সত্যতা পেতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পুরস্কার ঘোষণা ও আকুতি করতে দেখা যায়। তবে পুলিশের ব্যবহৃত বাইকের তেলের ট্যাংক পরীক্ষা করতে না দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়।
জনরোষ যখন তুঙ্গে, তখন পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন দায়িত্ব অফিসার ও পাম্প মালিক জনাব আলম ইসলাম নিজে। তিনি উপস্থিত উত্তেজিত জনতা এবং ডিউটিরত অফিসার, পাম কতৃপক্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে সরাসরি তেলের প্রধান আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক বা ডিপো খুলে দেখান। ডিপোতে কোনো তেল অবশিষ্ট না থাকায় জনগণের দীর্ঘক্ষণের সন্দেহ দূর হয় এবং মুহূর্তেই পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে।
তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সময় আরোহীরা চরম হতাশা প্রকাশ করলেও পাম্প মালিকের এমন স্বচ্ছ ও সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তারা এলাকায় চলমান এই তীব্র জ্বালানি সংকট নিরসনে পাম মালিক ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।