সুন্দরগঞ্জে হাম প্রতিরোধে সচেতনতার আহ্বান
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় শিশুদের মধ্যে হাম রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীরা অভিভাবকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হওয়া এবং সঠিক পরিচর্যা করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম হলে হঠাৎ করে উচ্চ জ্বর (১০২–১০৪ ডিগ্রি), চোখ লাল হওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক দিয়ে পানি পড়া ও কাশি, মুখের ভিতরে সাদা দানা (কপলিক স্পট) এবং ৩–৪ দিন পর শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। এ সময় শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খেতে চায় না।
হাম আক্রান্ত শিশুকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বর নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল দেওয়া, শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন বা স্যুপ খাওয়ানো এবং ভিটামিন–এ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, দুধ, মাছ, ডাল ও ফলমূল খাওয়ালে শিশুর দ্রুত সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
চোখের সমস্যা এড়াতে ঘর কিছুটা অন্ধকার রাখা এবং পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চোখ মুছে দেওয়া যেতে পারে। তবে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত জ্বর, খিঁচুনি বা শিশুর অচেতন হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো MR বা MMR টিকা প্রদান। এ ছাড়া হাম আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে অন্তত চার দিন আলাদা রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এ রোগ খুবই ছোঁয়াচে।
এদিকে বেলকা ইউনিয়নের তালুক বেলকা কমিউনিটি ক্লিনিকসহ সরদার পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও কিশামত সদর কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। সেখানে CHCP সরকারি ছুটির দিন বাদে HA ও FWA সপ্তাহে দুই দিন করে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদান করছেন, যাতে স্থানীয় মানুষ সহজে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।