পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ থেকে লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান কাঠ চুরির অভিযোগ
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
বিশেষ প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে সংরক্ষিত লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান কাঠ চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত বছরের শুরুর দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদের ভেতরে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে কয়েকটি মূল্যবান গাছ কর্তন করা হয়। পাশাপাশি ঝড়ে পড়ে যাওয়া কিছু গাছের গুড়িও সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। এসব গাছের মধ্যে মেহগনি, সেগুন, আমলকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান কাঠ ছিল।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কাঠগুলো নিলামের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবনের সংলগ্ন অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন পর দেখা যায়, সংরক্ষিত এসব কাঠের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে কীভাবে এসব মূল্যবান কাঠ উধাও হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদের কয়েকজন কর্মচারীর যোগসাজশে এসব কাঠ কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পরিষদে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জানান, একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী গোপনে এসব কাঠ বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তারা ধারণা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকা, চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রায় ১২ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া অফিসে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা পরিষদে আগত সেবাপ্রত্যাশী ও সচেতন মহল দাবি জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও বদলির দাবিও তুলেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জাবের আহমেদ জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সিসি টিভির ফুটেজ দেখে এ ঘটনায় তদন্তের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার গাইবান্ধা, জেলা প্রশাসক গাইবান্ধা এবং স্থানীয় সরকার রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।