বিশিষ্ট সাংবাদিক শেখ আবু আসলাম বাবুর কাব্যগ্রন্থ ‘প্রতীক্ষা’ তুলে দিলেন চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাতে
মোঃ জুয়েল খাঁন, খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান
বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক শেখ আবু আসলাম বাবু তাঁর লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘প্রতীক্ষা’ উপহার দিলেন খুলনা আর্ট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাতে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে তিনি খুলনা আর্ট একাডেমি পরিদর্শনে এসে একাডেমির নান্দনিক পরিবেশ ও শিল্পসংগ্রহ দেখে মুগ্ধ হন। আর্ট একাডেমির প্রতিটি দেয়ালে শিল্পের ছোঁয়া দেখে তিনি বলেন,
“মাত্র দেড় বছর পর এসে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। বিভিন্ন আর্টের পাশাপাশি প্রাচীন সামগ্রী সংগ্রহ করে মিলন বিশ্বাস এক চমৎকার সংরক্ষণশালা গড়ে তুলেছেন। এটা শুধু একটি আর্ট একাডেমিই নয়, বরং ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল সাক্ষী এই ক্ষুদ্র মিউজিয়াম।”
এরপর তিনি নিজ হাতে তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘প্রতীক্ষা’ চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাসের হাতে তুলে দিয়ে বলেন,
“এই গ্রন্থটি আমি তোমাকে উপহার দিতে এসেছি।”
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন,
“শিল্পচর্চার শুরু থেকে সমাজের অনেক মানুষের সহযোগিতা পেয়েছি, বিশেষ করে সাংবাদিক ভাইয়েরা সবসময় পাশে থেকেছেন। তাঁদের প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। আবু আসলাম বাবু ভাই তাঁদের মধ্যে অন্যতম; তিনি শুধু সাংবাদিক নন, একজন লেখক ও শিল্পমনস্ক মানুষ।”
তিনি আরও বলেন,
“এই বইটি পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। খুলনা আর্ট একাডেমির পক্ষ থেকে তাঁর সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি। আশা করি, তাঁর লেখনী নবীন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”
শেখ আবু আসলাম বাবু একজন বহুমুখী প্রতিভাবান লেখক ও সাংবাদিক। তিনি সাহিত্যিক শেখ আবুল মাসুদের সন্তান এবং সাহিত্যরত্ন ডা. আবুল কাশেমের প্রেরণায় সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন। তাঁর সহধর্মিণী ছিলেন একজন শিক্ষিকা ও তাঁর লেখালেখির অনুপ্রেরণার উৎস; তাঁকে হারিয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন, যা তাঁর সৃষ্টিশীল জীবনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
১৯৯৯ সাল থেকে তিনি সাহিত্যে সরকারি ভাতা পেয়ে আসছেন। তিনি সাপ্তাহিক খুলনার কণ্ঠ ও সাপ্তাহিক জনতার মিছিল-এর সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বহু পুরস্কার ও সম্মাননা—
সাংবাদিকতা স্বর্ণপদক (২০১২), মাদার তেরেসা পদক (২০১৭), ড. ভূপেন হাজারিকা অ্যাওয়ার্ড (ভারত), ত্রিপুরা রাজবাড়ি সম্মাননা, মায়াবতী দেবী গোল্ড মেডেল, রবীন্দ্র স্মৃতি ক্রেস্ট এবং Poetry for Palestine Award।
এ পর্যন্ত তাঁর লেখা মোট ১৩টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যা পাঠকসমাজে গভীরভাবে সমাদৃত।
চিত্রশিল্পী মিলন বিশ্বাস বলেন,
“এই গুণী মানুষটির লেখনী আমাদের সমাজে আলোর দিশা দেখাক। নবীন প্রজন্ম তাঁর লেখা থেকে জীবন ও মানবতার শিক্ষা নিক—এটাই আমার কামনা।”