লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা জজ আরিফুল বরখাস্ত
মিনহাজুল হক বাপ্পী, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ
অদক্ষতা ও অসদাচরণ’-এর গুরুতর অভিযোগে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আরিফুল ইসলামকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে । সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে এবং রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৩ থেকে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বিচারক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা (নং ০২/২০২৬) রুজু করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ খাদেম উল কায়েস স্বাক্ষরিত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোঃ আরিফুল ইসলাম লালমনিরহাটে যোগদানের আগে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় হাজী হোসেন পাইকারি মার্কেট’ দখল এবং পদের প্রভাব খাটিয়ে দেশের ৬টি জেলায় প্রায় ১৫০ জন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১৮টি ভুয়া ও হয়রানিমূলক মামলা করেন। এ নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিচার বিভাগে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয় তদন্তে নামলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এর আগে তিনি শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ ও ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইনজীবীর এমন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার খবর ছড়িয়ে পড়লে রংপুর বিভাগ ও লালমনিরহাটের আদালত পাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রংপুর অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও জনগণের আস্থা রক্ষায় এই ধরণের দ্রুত পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।

খুব শীঘ্রই উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত দল নথিপত্র যাচাই ও চূড়ান্ত সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য লালমনিরহাট পরিদর্শনে আসবেন বলে জানা গেছে।