তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় রায়গঞ্জে বোরো ধানের বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা
মো: সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূর্যের আলো না থাকায় এবং হিমেল বাতাসের প্রভাবে অনেক বীজতলার চারা হলদে হয়ে যাচ্ছে, কোথাও কোথাও পচনও ধরছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
উপজেলার চান্দাইকোনা, ধুবিল, সোনাখাড়া, ধামাইনগর ও নিমগাছী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে—অধিকাংশ বীজতলায় চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় কুয়াশায় ঢেকে থাকায় চারাগুলো পর্যাপ্ত সূর্যালোক পাচ্ছে না, ফলে চারা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ধামাইনগর এলাকার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
“এবার আগেভাগেই বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু কয়েকদিনের শীত ও কুয়াশায় চারা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন আবহাওয়া আরও কিছুদিন থাকলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
সোনাখাড়া ইউনিয়নের কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, বীজতলা রক্ষায় অনেকেই পলিথিন দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছেন। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব কৃষকের পক্ষে এ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ
উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কৃষি কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন,
“বীজতলা রক্ষায় সকালে জমে থাকা শিশির পরিষ্কার করতে হবে। প্রতি এক লিটার পানিতে ৪ গ্রাম থিওভিট, পটাশ ও ইউরিয়া মিশিয়ে কয়েকদিন পরপর স্প্রে করলে চারা অনেকটা সুরক্ষিত থাকবে।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, চলতি বোরো মৌসুমে রায়গঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন,
“তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলার ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। কৃষকদের বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, ৩–৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা, সকালবেলা কুয়াশার পানি ঝরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
দীর্ঘদিন এমন বিরূপ আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।