August 14, 2026, 11:07 pm
শিরোনাম :
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুলা আল মামুন সম্মানিত নীলফামারী জেলা প্রশাসককে গ্রীন ভয়েসের দুর্লভ রক্তকাঞ্চন গাছ বিতরণ ​নীলফামারী জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্ট ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবি মোতায়েন নীলফামারীতে সাপের কামড়ে, শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু শিবগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামে নাগরিক গোলটেবিল কথা বলবেন ভোলার- মাকসুদ বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ: দ্বীনি শিক্ষা ও রূহানি সাধনার এক অনন্য কেন্দ্র নাটোরে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,দুই ওসির প্রত্যাহার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গোপালগঞ্জে শপিংমল মার্কেট দোকান বন্ধের অভিযান

নারীর দৃঢ়তা ও স্বপ্নের গল্প: সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি

Reporter Name

নারীর দৃঢ়তা ও স্বপ্নের গল্প: সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি

ঢাকার খিলগাঁও এলাকার পরিচিত মুখ সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি— নামটি এখন শুধু একজন উদ্যোক্তার নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ৫২ বছর বয়সী এই নারী গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

হ্যাপি বুটিক্স ও হ্যান্ডিক্রাফট এবং হ্যাপি রসুই ঘর— এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দেশীয় হস্তশিল্প ও পোশাক শিল্পে অবদান রাখছেন, অন্যদিকে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। ২০১৪ সালে ব্যবসা শুরু করলেও তাঁর উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে— সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও নারী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

শিক্ষাগতভাবে বি এ পাস করা সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। মা-বাবা সবসময় সৎ ও ইতিবাচক কাজে উৎসাহ দিতেন। সেই প্রেরণাই আজ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।”

গুণগত মানই মূল লক্ষ্য

হ্যাপি বুটিক্স ও হ্যান্ডিক্রাফটে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পোশাক, হাতে তৈরি নান্দনিক হ্যান্ডিক্রাফট পণ্য, আর ‘হ্যাপি রসুই ঘর’-এ প্রস্তুত হয় সুস্বাদু দেশীয় খাবার। তিনি বিশ্বাস করেন, পণ্যের মানে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, “আমরা কখনো মানের সঙ্গে আপস করি না। ভালো কাজের মাধ্যমেই সাফল্য আসে।”

নারী ও শিশুর জন্য কাজ

নিজের ব্যবসার পাশাপাশি হ্যাপি পল্লীমা সংগঠন এবং নকশীকাঁথা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যেখানে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য কেবল নিজের সফলতা নয়— বরং অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী করে তোলা।

চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এগিয়ে চলা

প্রথম দিকে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও হ্যাপি কখনো হার মানেননি। পরিবার, সহকর্মী এবং কারিগরদের সহায়তায় তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা স্থানীয় বাজারে পরিচিত একটি নাম, আর তিনি নিজেও নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আগামী দিনে আরও নারী উদ্যোক্তাকে পাশে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর স্বপ্ন— নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে সফলতার গল্প লিখবে।

হ্যাপি বিশ্বাস করেন, সাহস, সততা এবং অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। তাঁর মতো নারীরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন— যদি ইচ্ছা দৃঢ় হয়, তবে সাফল্য শুধু সময়ের অপেক্ষা।

প্রস্তুত করেছেন: [রিফাত আমিন]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা