August 14, 2026, 6:44 pm
শিরোনাম :
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুলা আল মামুন সম্মানিত নীলফামারী জেলা প্রশাসককে গ্রীন ভয়েসের দুর্লভ রক্তকাঞ্চন গাছ বিতরণ ​নীলফামারী জেলা পুলিশের অভিযানে মাদক উদ্ধার ও গ্রেফতার গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্ট ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবি মোতায়েন নীলফামারীতে সাপের কামড়ে, শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু শিবগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে জশনে জুলুস উপকূলীয় মানুষের দুর্যোগঝুঁকি নিয়ে চট্টগ্রামে নাগরিক গোলটেবিল কথা বলবেন ভোলার- মাকসুদ বাংলাদেশ চিশতিয়া জাকের মঞ্জিল দরবার শরিফ: দ্বীনি শিক্ষা ও রূহানি সাধনার এক অনন্য কেন্দ্র নাটোরে সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন,দুই ওসির প্রত্যাহার চেয়ে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম গোপালগঞ্জে শপিংমল মার্কেট দোকান বন্ধের অভিযান

কৃষকের ঘরে উঠলো সোনার ফসল জিপিএ ফাইভ

মিনহাজুল হক বাপ্পি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট

ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের জয়: কৃষক পরিবারের দুই সন্তানের জিপিএ-৫ জয়

মিনহাজুল হক বাপ্পী লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটে এক প্রত্যন্ত গ্রামের একই যৌথ পরিবারে মেধার অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে দুই কাকাতো ভাই-বোন। সদ্য প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সীমান্ত চন্দ্র রায় ‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ এবং তার বোন সেতু রানী রায় ‘জিপিএ-৫’ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। চরম প্রতিকূলতার মাঝে উঠে আসা এই দুই শিক্ষার্থীর অসামান্য সাফল্যে পরিবার ও গোটা এলাকায় এখন আনন্দের জোয়ার বইছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের মধুরাম গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান তারা। কৃষক প্রাণেশ্বর চন্দ্র বর্মণের ছেলে সীমান্ত চন্দ্র রায় জগৎবের কালিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে। এরপর চলতি বছর তিস্তা কে আর খাদেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে।

অন্যদিকে, তার কাকাতো বোন মধুরাম গ্রামের গোপাল চন্দ্র রায়ের মেয়ে সেতু রানী রায় মধুরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক গণ্ডি পার হয়। এবার তিস্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে-ও জিপিএ-৫ পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

এলাকাবাসী জানান, চরম অর্থনৈতিক সংকট ও গ্রামীণ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দুই ভাই-বোনের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। পারিবারিকভাবে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ এই দুই ভাই-বোন পড়াশোনায় একে অপরকে সবসময় সহযোগিতা করত। তাদের এই অভাবনীয় সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী তাদের অভিনন্দন ও মিষ্টি মুখ করিয়েছেন।

সন্তানদের এই কৃতিত্বে আবেগপ্লুত বাবা-মা জানান, ওদের এই সাফল্য আমাদের সব কঠোর পরিশ্রম, কষ্ট ও ত্যাগের সার্থকতা এনে দিয়েছে। অভাবের সংসারে এটি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় আনন্দ। ভবিষ্যতে তারা দুজনেই যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে পারে, সেজন্য তারা সকলের কাছে আশীর্বাদ ও দোয়া চেয়েছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব, সীমান্ত ও সেতু তা প্রমাণ করেছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তারা ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা