সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার এনায়েতপুরে অবস্থিত খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গত ৫ ফেব্রুয়ারি অত্যন্ত আনন্দঘন ও বর্ণিল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী পিঠা উৎসব ও প্রতিযোগিতা।
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও পিঠাপুলির স্বাদ-গন্ধে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগসহ মোট ৯টি বিভাগ অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল উপস্থাপনা, নান্দনিক স্টল সজ্জা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশন এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠার বৈচিত্র্যে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)-এর প্রতিনিধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য।
এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বিচারকমণ্ডলী স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্টল ব্যবস্থাপনা, নান্দনিক ডেকোরেশন, সৃজনশীল উপস্থাপন এবং সামগ্রিক আয়োজনের মান বিবেচনায় প্রাণ রসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগকে প্রথম স্থান প্রদান করেন। বিভাগের স্টলটি ছিল বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল, যা দর্শনার্থীদের দারুণভাবে মুগ্ধ করে।
প্রাণ রসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভাগীয় প্রধান ড. তারিকুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এই অর্জন আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ও ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পিঠা উৎসব খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।