September 24, 2026, 8:02 am
শিরোনাম :
জলঢাকায় মকবুল হোসেন হত্যার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন গোপালগঞ্জে ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও গাছ লাগিয়ে দেশ সাজাতে অনন্য উদ্যোগ: রংপুরে আনসার ও ভিডিপি গোপালগঞ্জেয ডিবি পুলিশ পৃথক অভিযানে ২ কেজি গাজা সহ ২ জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভোলার তজুমুদ্দিনে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন দুষ্কৃতিকারী আটক গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ পেলেন সম্মানজনক ‘বিপিএম-সেবা’ পদক জ্বালানি তেলের রাতারাতি বাড়তি মুনাফার লোভ, প্রতিবাদ করায় ফিলিং স্টেশন মালিকের রডের আঘাতে রক্তাক্ত গ্রাহক! আর শোনা হলো না কীর্তন, জলঢাকায় পিকআপের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ প্রাণ গেল স্বামীর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডিমলায় আনসার-ভিডিপির ১০ দিনের প্রশিক্ষণে চতুর্থ দিনে দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ

শিক্ষা সংকটে হাতিয়া: একের পর এক কলেজে শতভাগ ফেল

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

শিক্ষা সংকটে হাতিয়া: একের পর এক কলেজে শতভাগ ফেল

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর শিক্ষা ব্যবস্থায় এক হতাশাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। পুরো জেলার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছে উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়া। একসময় “জ্ঞানই শক্তি” স্লোগানে শিক্ষায় গৌরব করা দ্বীপটি আজ নিমজ্জিত শিক্ষার অন্ধকারে।

দ্বীপবাসীর মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—এই পতনের দায় কার? শিক্ষক, প্রশাসন, নাকি রাজনীতি?

তথ্য অনুযায়ী, হাতিয়া উপজেলার গড় পাশের হার মাত্র ৪৮.৬ শতাংশ, যা নোয়াখালীর ৯ উপজেলার মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, সদর, বেগমগঞ্জ ও চাটখিল উপজেলায় পাশের হার ছিল গড়ে ৭৫ শতাংশের ওপরে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে দ্বীপ সরকারি কলেজে, যেখানে এবার বিভিন্ন বিভাগ থেকে ৪৭৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফেল করেছে ৪০২ জন। অর্থাৎ, গড় ফেলের হার প্রায় ৮৫ শতাংশ। এছাড়া উপজেলার আরও কয়েকটি কলেজে শতভাগ ফেল হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার এই ভয়াবহ ভাঙনের পেছনে দায়ী রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষকদের অদক্ষতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা। দীর্ঘদিন ধরে হাতিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট, অনিয়ম, এবং মানসম্মত পাঠদানের অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
আমাদের ছেলেমেয়েরা পড়তে চায়, কিন্তু শিক্ষকরা ক্লাসে আসে না। প্রাইভেট না পড়লে পাসই করা যায় না। কলেজে শৃঙ্খলা নেই, তদারকিও নেই।

শিক্ষাবিদদের মতে, হাতিয়ার মতো দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন। শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও শিক্ষার্থী-অভিভাবক সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এ সংকট কাটানো সম্ভব নয়।

যদি এখনই ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে হাতিয়ার শিক্ষা হয়তো সত্যিই পরিণত হবে ‘হারানো আলোর দ্বীপে’।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা