August 22, 2026, 4:55 pm
শিরোনাম :
২০২৪ সালে মৃত্যু, ২০২৬ সালে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন—কাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গোপালগঞ্জে গাঁজা গাছ চাষের অভিযোগ ইমামুল গ্রেফতার লামার সরইয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২০ পিস ইয়াবা সহ ১ যুবক আটক মোবাইল ব্যবহার নিয়ে বিরোধের জেরে সহকর্মীকে হত্যা। রেজাউল করিম রিয়াদ ২২ আগস্ট ২০২৬ শনিবার গোপালগঞ্জে ৪৭ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার ২ ভোলার দৌলতখানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পলিথিন ও পলিথিন তৈরির কাঁচামালসহ এক জন আটক নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম উদ্যোগেই মানবতার নজির, পথদরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ জলঢাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মীরগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দল আহ্বায়ক বহিষ্কৃত, কমিটি বিলুপ্ত সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বদলি, নিয়োগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে পদায়ন গোপালগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের ব্যাটারি চুরি যুবক গ্রেপ্তার

নেছারাবাদে জন্মগতভাবে বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

নেছারাবাদে জন্মগতভাবে বিকলঙ্গ সন্তান ত্যাগে পিতার চাপ, মায়ের দৃঢ় অবস্থান

পিরোজপুর প্রতিনিধি:

পিরোজপুরের নেছারাবাদে জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক নবজাতককে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার পিতা। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।গত ২২ এপ্রিল রাত আটটার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। জন্ম নেওয়া শিশুটি দুই পা ও এক হাত ছাড়াই পৃথিবীর আলো দেখে।

সন্তান জন্মের খবর পাওয়ার পর নবজাতকের পিতা, দিনমজুর আল-আমীন, শিশুটিকে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন। কিন্তু মা লিজা আক্তার তার সন্তানের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা থেকে সেই সিদ্ধান্ত দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

লিজা আক্তারের বাড়ি পাশ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। বাবার নিষ্ঠুর আচরণের বিপরীতে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজারিয়ান অপারেশনসহ সব চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করেছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ গোলাম মোস্তফা এ উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডাঃ প্রীতিষ বিশ্বাসও তার সার্জন ফি মওকুফ করেছেন। এ ঘটনায় একদিকে যেমন পিতার নির্মমতা সামনে এসেছে, অন্যদিকে মায়ের অটল ভালোবাসা ও মানবিকতা সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

নবজাতকের মা লিজা আক্তার হাসপাতালের বেডে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার আগে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করেন। সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় কয়েকদিন আগে বাড়িতে আসেন এবং ২২ এপ্রিল সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এই সন্তানের জন্ম দেন।

তিনি বলেন, আমার সন্তান অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিক অঙ্গপ্রতঙ্গ নিয়ে জন্মায়নি। তার দুই পা ও একটি হাত নেই। এ কারণে আমার স্বামী তাকে ফেলে আসতে বলেছে। কিন্তু আমি আমার সন্তানকে কখনো ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে না রাখলেও আমি আমার সন্তানকে ছাড়ব না। আমি তাকে মানুষ করে তুলব।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, আমি যতদিন বেঁচে আছি, কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমি মারা গেলে আমার সন্তানকে কে দেখবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো স্বহৃদয়বান ব্যক্তি যদি সাহায্যের হাত বাড়ান, তাহলে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত করতে পারব।

নিউ সততা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, দিনমজুর এই নারী ও নবজাতকের অবস্থা বিবেচনা করে আমরা হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করেছি। অপারেশনের চিকিৎসকও কোনো ফি নেননি।

অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। অপারেশনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তবে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শিশুটির শারীরিক ত্রুটি থাকায় আমরা মর্মাহত। মানবিক দিক বিবেচনায় আমি আমার সার্জন ফিও মওকুফ করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা