চরকচ্ছপিয়া টু চর কুকরি মুকরি লঞ্চ-খেয়া মালিকদের হয়রানির জাঁতাকলে সাধারণ যাত্রীরা
বিশেষ প্রতিনিধি:
চরকচ্ছপিয়া থেকে চর কুকরি মুকরি রুটে চলাচলকারী লঞ্চ ও খেয়া মালিকদের অনিয়ম এবং চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শত শত সাধারণ যাত্রী। নির্ধারিত সময়ের তোয়াক্কা না করে খামখেয়ালিভাবে জলযান চালানো এবং যাত্রীদের জিম্মি করে বরফ ও মালামাল তোলাই এখন এখানকার নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকচ্ছপিয়া থেকে চর কুকরি মুকরির উদ্দেশ্যে বিকেল ৪:৩০ মিনিটে লঞ্চ/খেয়া ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও তা মেনে চলা হয় না। অনিয়মিতভাবে ঘাট ছাড়ার পর আবার নিকটস্থ বরফকলের কাছে এসে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করা হয়। বরফ ও অন্যান্য মালামাল তুলতে তুলতে বিকেল ৪:৫৫টা বেজে যায়। ফলে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই বিলম্ব মারাত্মক ঝুঁকি ও ভোগান্তি তৈরি করছে।
যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত ইনকাম ট্যাক্স ও রাজস্বের টাকায় দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অথচ সেই সাধারণ মানুষকেই প্রতিনিয়ত এমন অনিয়ম ও অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন— “আমরা কি এই হয়রানির জাঁতাকল থেকে কখনই রক্ষা পাব না?”
এ অবস্থায় চরকচ্ছপিয়া-চর কুকরি মুকরি রুটে চলাচলকারী জলযানগুলোর নির্দিষ্ট সময়সূচি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা, যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং বরফ ও মালামাল তোলার নামে অযথা সময়ক্ষেপণ রদ করতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী জনগণ। পাশাপাশি এলাকার দায়িত্বশীল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।