২০২৪ সালে মৃত্যু, ২০২৬ সালে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন—কাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী,
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২০২৪ সালে মারা যাওয়া মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ উঠেছে নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে। একই বিবাহের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশনের তারিখ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের মো. নায়েব আলীর মেয়ে মোছা. শারমিন আক্তারের সঙ্গে মতিয়ার রহমানের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার অন্যত্র বিয়ে করেন।

মতিয়ার রহমানের বাবা মো. হোসেন আলীর অভিযোগ, ছেলের আগের বিবাহের নিকাহনামার নকল কপি নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজীর কাছে যান। কিন্তু পুরোনো রেজিস্ট্রেশন থেকে নকল কপি দেওয়ার পরিবর্তে টাকা নিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান ও শারমিন আক্তারের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজী ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি দেন।
মো. হোসেন আলী বলেন, “আমার ছেলে ২০২৪ সালে মারা গেছে। শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে পারিবারিকভাবেই হয়েছিল। আমি শুধু আগের বিয়ের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই। তিনি বলেন, “মৃত মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কারও কাছ থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মূল রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”

এদিকে একই বিবাহের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ও ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট—দুই ভিন্ন তারিখে নিকাহনামা বা রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত নথি থাকার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
মতিয়ার রহমানের বাবা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি কাজীর মূল রেজিস্টার, পূর্বের বিবাহের তথ্য এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্টের রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “মতিয়ার ২০২৪ সালে মারা গেছে, এটা আমি জানি। পরিষদ থেকে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও নিয়ে গেছে।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “এরকম কাজের কোনো সুযোগ নেই। তবে এমন ঘটনা হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”