ডোমারের সেবা ক্লিনিকে জন্ম নিল ‘অলৌকিক’ শিশু, দেখতে উৎসুক জনতার ঢল
আবদুল হালিম
নিলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ‘সেবা ক্লিনিক’-এ এক বিস্ময়কর ও অলৌকিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি শিশুর জন্ম হয়েছে। বুধবার সকালে শিশুটির জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ক্লিনিক চত্বরে উৎসুক মানুষের ব্যাপক ভিড় জমে যায়।
ক্লিনিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ডোমার উপজেলার এক প্রসূতি মা সকালে প্রসববেদনা নিয়ে সেবা ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি একটি বিরল শারীরিক বৈশিষ্ট্যের শিশুর জন্ম দেন। নবজাতকের শারীরিক গঠন ও চোখ-মুখের বিশেষত্ব দেখে চিকিৎসকসহ উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে যান। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং অলৌকিক শিশু দেখার জন্য আশেপাশের গ্রাম ও ডোমার বাজার থেকে শত শত উৎসুক জনতা ক্লিনিকে আসতে শুরু করে।
জনতার ভিড় সামলাতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে সাময়িকভাবে প্রধান ফটক বন্ধ রাখতে হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা খবর পেয়েই ছুটে এসেছি শিশুটিকে এক নজর দেখতে। সাধারণ নবজাতকের চেয়ে এর রূপ ও গঠনে অনেক পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, যা সত্যিই বিস্ময়কর।”
তবে চিকিৎসকরা বিষয়টিকে অলৌকিক না বলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিরল ‘কনজেনিটাল অ্যানোমালি’ বা বিরল শারীরিক জন্মগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেবা ক্লিনিকের ডিরেক্টর ও দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক জানান, “নবজাতকের জন্মগত কিছু বিশেষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সাধারণত লাখে এক বা দুইটির মধ্যে দেখা যায়। সাধারণ মানুষ হয়তো একে অলৌকিক ভাবছে, তবে এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি বিরল কেস। বর্তমানে শিশু এবং মা উভয়ই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। শিশুর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
প্রয়োজনে শিশুটিকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে বলেও নিশ্চিত করেছেন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এদিকে স্থানীয় প্রবীণরা একে সৃষ্টিকর্তার কুদরত বলে অভিহিত করছেন, অন্যদিকে সচেতন মহল গুজব না ছড়িয়ে পরিবার ও চিকিৎসকদের সহযোগিতা করার জন্য ক্লিনিক এলাকায় সমবেত জনতার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ক্লিনিকে উৎসুক মানুষের ভিড় অব্যাহত ছিল এবং চিকিৎসকদের একটি বিশেষ টিম মা ও শিশুকে সারাক্ষণ কেয়ারে রেখেছে।