মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান: টুঙ্গিপাড়ার (এমপি)
লুৎফর সিকদার – গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
“টুঙ্গিপাড়ায় মসজিদ-মন্দিরের সেবকরা পাচ্ছেন সরকারি ভাতা; মাদক ও জুয়াবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আহ্বানের সূচনা”
মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নৈতিক সমাজ গঠনে ধর্মীয় সেবকদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ শনিবার (২২শে আগস্ট ২০২৬) গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গোপালগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দল এই সভার আয়োজন করে।
জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সদস্য সচিব মাওলানা ছাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম জিলানী মাদক ও অনলাইন জুয়ার সামাজিক কুফল তুলে ধরে বলেন, “আমাদের সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনগণ সমাজের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব; তাঁদের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের সামাজিক নানা ব্যাধি থেকে দূরে রাখা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ৭৭টি মসজিদের মোট ২৩১ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে সরকারি ভাতার আওতায় এনে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে উপজেলার ৫টি মন্দিরের ১০ জন পুরোহিত ও সেবায়েতকেও এই ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে এস এম জিলানী আরও বলেন, “ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়মিত সম্মানী প্রদান ও তাঁদের পাশে দাঁড়াতে পারা অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের। আর্থিকভাবে সামান্য স্বস্তি নিশ্চিত করা গেলে তাঁরা আরও নিবেদিতপ্রাণ হয়ে সমাজের মানবিক ও নৈতিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
সভায় মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ সার্বিক অপরাধ প্রতিরোধে জুমআর খুতবা ও সামাজিক জমায়েতে নিয়মিত সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় রেখে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় স্থানীয় ওলামা দলের নেতৃবৃন্দসহ টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।