August 20, 2026, 6:27 pm
শিরোনাম :
খাজনার টাকা নিয়ে মিথ্যা প্রচার’—গোবিন্দগঞ্জ ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারীর প্রতিবাদ, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সুন্দরগঞ্জে শাহাদাৎ হত্যা মামলায় ৩ ভাইয়ের যাবজ্জীবন ভুল কীটনাশক প্রয়োগে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট, অভিযোগ কৃষকের রহনপুরে শান্তিপাড়ায় মাদক, ছিনতাই ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে মতবিনিময় সভা বৃহত্তর কাশিনাথপুর জশনে জুলুস ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন মুফতি জহিরুল ইসলাম ফরিদী গোপালগঞ্জে কোটালিপাড়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাস কারাদণ্ড লামার সরইয়ে আদালতের শর্ত ভঙ্গ করে বাদীর জমি জবর দখলের অভিযোগ আসামির বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের রেখা রানী ওঝার জীবনে বিয়ে নয় মেয়েদের শিক্ষা জীবন উৎসর্গ অনন্য দৃষ্টান্ত গোপালগঞ্জের মারজুক রাসেলের অজানা গল্প ও সংগ্রামমুখর পথচলা বাংলাদেশে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলো মিয়ানমারের দুই বাহিনীর ১৪ সদস্য

ভুল কীটনাশক প্রয়োগে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট, অভিযোগ কৃষকের

মহিবুল্লাহ মেহেদী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

ভুল আগাছানাশক প্রয়োগে ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট, অভিযোগ কৃষকের

মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ধানক্ষেতে আগাছা দমনের জন্য স্থানীয় একটি কীটনাশকের দোকান থেকে ওষুধ কিনে প্রয়োগের পর ১৫ শতক জমির ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. কামরুজ্জামান ঘটনার প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগকারী কামরুজ্জামান উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আব্দুর জব্বার সরকারের ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত কীটনাশক বিক্রেতা মাহাবুর মিয়া একই ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে।

কৃষক কামরুজ্জামান জানান, ধানক্ষেতে আগাছা দেখা দেওয়ায় তিনি আগাছানাশক ব্যবহারের বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে চেয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাকে না পেয়ে বেলকা নবাবগঞ্জ এলাকার মাহাবুর মিয়ার দোকানে যান। সেখানে ধানক্ষেতের আগাছা দমনের জন্য ওষুধ চাইলে তাকে ‘এরাক্সন ২০০ এসএল’ নামের ১০০ মিলিলিটারের একটি ওষুধ দেওয়া হয়।

দোকানির পরামর্শ অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট ওই ওষুধ ধানক্ষেতে প্রয়োগ করেন তিনি। কিন্তু পরদিন থেকেই ধানের চারা শুকিয়ে মারা যেতে শুরু করে বলে দাবি করেন কৃষক।

কামরুজ্জামান বলেন, “আগাছা দমনের জন্য দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে জমিতে প্রয়োগ করেছিলাম। কিন্তু পরদিন থেকেই ধানের চারা নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমানে আমার ১৫ শতক জমির প্রায় সব ধানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

পরে বিষয়টি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধানক্ষেত পরিদর্শন করেন।

তবে কৃষকের অভিযোগ অস্বীকার করে কীটনাশক বিক্রেতা মাহাবুর মিয়া বলেন, “আমি ভুল ওষুধ দিইনি। তিনি আমার কাছ থেকে খাওনা বাড়ির অর্থাৎ ফাঁকা জমির ঘাস দমনের জন্য ওষুধ নিয়েছিলেন।”

এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. এরশাদ মিয়া বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা জমিটি পরিদর্শন করেছি। সেখানে ধানের চারাগুলো মারা যাওয়ার বিষয়টি দেখা গেছে। কৃষকের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি সেদিন অফিসে যেতে পারেননি। তবে অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “ওষুধটি কী ছিল এবং সেটি সঠিক মাত্রা ও পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। এরপরই ধানের চারাগুলো কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট বিক্রেতার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।”

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “অভিযোগটি এখনো আমার কাছে পৌঁছায়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ক্ষতির কারণ নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ন্যায্য প্রতিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা