October 4, 2026, 10:03 am
শিরোনাম :
বান্দরবানের লামায় বন্যা হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ পরিবার পেল ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক হস্তান্তর জলঢাকায় ‘ট্রাস্টেড আইটি সেন্টার’ ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি চর কুকরি মুকরি লঞ্চ-খেয়া মালিকদের হয়রানির জাঁতাকলে সাধারণ যাত্রীরা সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ূবী আল ক্বাদেরীর হাতে পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয় ভোলার নয় কূপে দৈনিক ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ তারাগঞ্জে ডালিয়া সেচ প্রকল্পের মেঠোপথে ৪০০ তালবীজ রোপণ: ছায়াশূন্য মাঠে স্বস্তির উদ্যোগ হাতিয়ায় ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রেস-ক্লাব ট্রাস্টের ঢাকা দক্ষিণাঞ্চলের (সাবেক ফরিদপুর) পাঁচ জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনীত ভোলা পূর্ব ইলিশা জংশন বাজার মাঠে জমজমাট মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২ অক্টোবর ২০২৬ বাদ জুম্মা শহীদ হাদী চত্বর শাহবাগ ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি মোঃ সিমান্ত তালুকদার

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেরপুর পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব

মোঃ কামরুজ্জামান সরকার

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেরপুর পহেলা বৈশাখ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব

মোঃ কামরুজ্জামান সরকার

চিরন্তন এই উৎসব উদযাপিত হয় জাতীয়ভাবে। বছরের পর বছর জুড়ে, ঘুরে এ দিনটি ফিরে বার বার আসে, বাঙালির প্রতিটি ঘরের আঙিনায় প্রাণের উচ্ছ্বাস নিয়ে। অনিন্দ্য সুন্দর রূপ বৈচিত্র নিয়ে। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হতাশা আর ক্লান্তির সব হিসাব চুকে আগামীর দিকে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রবল ইচ্ছা

আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিন। বাঙালির নববর্ষ বলে কথা। সারাদেশ তাই বৈশাখী উৎসবে মাতোয়ারা। ষোলআনা বাঙালির চিরচেনা রঙে, ঢঙে, রূপে ও বৈচিত্রে। নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবয়বে। পহেলা বৈশাখের উৎসব মানেই বাঙালির প্রাণের উৎসব। প্রতিটি বাঙালি উৎসবটি পালন করে হৃদয়ের গভীর থেকে। আনন্দ উল্লাসের সঙ্গে। বর্ণিল ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা দিনটি অতিবাহিত করে। এই দিনে বাঙালি ফিরে পায় রঙে রঙে রঙিন হওয়ার তুলনাহীন এক অনুভূতি যা সুরের ঝংকারের মতো, ছন্দের উত্তেজনার মতো, শিল্পীর শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় ক্যানভাসে ফুটে ওঠা দৃষ্টি নন্দন ও স্বপ্নময় অপরূপ তৈলচিত্রের সৌন্দর্যের মতো। বাঙালি সাজে নিজের মতো করে একদম দেশীয় সংস্কৃতির আদল ও ঢঙে।

পহেলা বৈশাখের উৎসব বাঙালি সংস্কৃতির নিজস্ব সম্পদ। চিরন্তন এই উৎসব উদযাপিত হয় জাতীয়ভাবে। বছরের পর বছর জুড়ে, ঘুরে এ দিনটি ফিরে বার বার আসে, বাঙালির প্রতিটি ঘরের আঙিনায় প্রাণের উচ্ছ্বাস নিয়ে। অনিন্দ্য সুন্দর রূপ বৈচিত্র নিয়ে। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হতাশা আর ক্লান্তির সব হিসাব চুকে আগামীর দিকে সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রবল ইচ্ছা শক্তি নিয়ে। গ্রামে-গঞ্জে, হাট-বাজারে, শহর-বন্দরে ইটপাথরের কোলাহলে, বয়ে আনে আনন্দ উৎসব। বগুড়া শেরপুর উপজেলা চত্বরে সাদা শাড়ি লাল পাড়ে, রঙ-বেরঙের সাজ পোশাকে, গ্রামীণ সংস্কৃতির বিভিন্ন অভিব্যক্তি তথা নৃত্যগীতের সঙ্গে পান্তা ইলিশ ও ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের সমারোহ নিয়ে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ মেতে ওঠে চিরায়ত এই উৎসবের দিনে। উৎসবটি তাই সর্বজনীন ও অসাম্প্রদায়িক।

বাঙালিয়ানার এই দিনে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন বর্ণের, বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ এক পংক্তিতে দাঁড়িয়ে একাত্মতা অনুভব করে। বিভেদ হিংসা বিদ্বেষ ভুলে সব সন্দেহ ও অবিশ্বাসের গ্লানি মুছে তারা ঐক্যের মোহনায় মিলিত হয়। অগ্নিস্নানে শুচি হয় ধরা। সব সংকীর্ণতা ভুলে, সব সংস্কারের জাল ছিন্ন করে, এক সূত্রে সংগ্রথিত করে পহেলা বৈশাখ সবাইকে কাছে টানে। মিলিত করে পারস্পরিক সহ-অবস্থানে। ছড়িয়ে দেয় সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা। এই উৎসব বাঙালি জাতিসত্তার জীবন বৈচিত্রের বহুমুখী ধারাকে সমবেত করে মহামিলনের বিস্তীর্ণ মোহনায়।
এরি ধারাবাহিকতায় বগুড়া শেরপুরে উপজেলা চত্বরে বাংলার নববর্ষের ১৪৩৩ উদযাপিত হয়েছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, সহকারী কমিশনার ভূমি মাহমুদুল হাসান, শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মইনুদ্দিন, শেরপুর থানা ওসি তদন্ত মোঃ জয়নাল আবেদীন পৌর বিএনপি বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র স্বাধীন কুমারকুণ্ড, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল,

এছাড়াও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আইয়ুব আলী এবং মহিলা দলের নেত্রী পুটি, মিষ্টি, জেসি ও রাহিমাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা এই উৎসবে অংশ নেন।

নববর্ষ উপলক্ষে দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা, ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার দোকানগুলোতে লোকজ পণ্য ও খাবারের সমাহার নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরছে।

অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, “পহেলা বৈশাখ শুধু একটি ক্যালেন্ডারের পাতা পরিবর্তন নয়, এটি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক।” অতীতের সকল গ্লানি ও ব্যর্থতা মুছে ফেলে নতুনের আহবানে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা