September 23, 2026, 4:47 am
শিরোনাম :
জলঢাকায় মকবুল হোসেন হত্যার প্রতিবাদে ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন গোপালগঞ্জে ক্রেডিট ইউনিয়নের কোটি টাকা নিয়ে কর্মচারী উধাও গাছ লাগিয়ে দেশ সাজাতে অনন্য উদ্যোগ: রংপুরে আনসার ও ভিডিপি গোপালগঞ্জেয ডিবি পুলিশ পৃথক অভিযানে ২ কেজি গাজা সহ ২ জন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ভোলার তজুমুদ্দিনে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৩ জন দুষ্কৃতিকারী আটক গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ পেলেন সম্মানজনক ‘বিপিএম-সেবা’ পদক জ্বালানি তেলের রাতারাতি বাড়তি মুনাফার লোভ, প্রতিবাদ করায় ফিলিং স্টেশন মালিকের রডের আঘাতে রক্তাক্ত গ্রাহক! আর শোনা হলো না কীর্তন, জলঢাকায় পিকআপের ধাক্কায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ প্রাণ গেল স্বামীর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ করা হয় ডিমলায় আনসার-ভিডিপির ১০ দিনের প্রশিক্ষণে চতুর্থ দিনে দুর্যোগ মোকাবিলা প্রশিক্ষণ

নারীর দৃঢ়তা ও স্বপ্নের গল্প: সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি

Reporter Name

নারীর দৃঢ়তা ও স্বপ্নের গল্প: সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি

ঢাকার খিলগাঁও এলাকার পরিচিত মুখ সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি— নামটি এখন শুধু একজন উদ্যোক্তার নয়, বরং এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। ৫২ বছর বয়সী এই নারী গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজের মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

হ্যাপি বুটিক্স ও হ্যান্ডিক্রাফট এবং হ্যাপি রসুই ঘর— এই দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন দেশীয় হস্তশিল্প ও পোশাক শিল্পে অবদান রাখছেন, অন্যদিকে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন। ২০১৪ সালে ব্যবসা শুরু করলেও তাঁর উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে— সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও নারী উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে।

শিক্ষাগতভাবে বি এ পাস করা সৈয়দা শামীমা সুলতানা হ্যাপি ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম। মা-বাবা সবসময় সৎ ও ইতিবাচক কাজে উৎসাহ দিতেন। সেই প্রেরণাই আজ আমাকে এগিয়ে যেতে সাহস দিয়েছে।”

গুণগত মানই মূল লক্ষ্য

হ্যাপি বুটিক্স ও হ্যান্ডিক্রাফটে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পোশাক, হাতে তৈরি নান্দনিক হ্যান্ডিক্রাফট পণ্য, আর ‘হ্যাপি রসুই ঘর’-এ প্রস্তুত হয় সুস্বাদু দেশীয় খাবার। তিনি বিশ্বাস করেন, পণ্যের মানে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। তাঁর কথায়, “আমরা কখনো মানের সঙ্গে আপস করি না। ভালো কাজের মাধ্যমেই সাফল্য আসে।”

নারী ও শিশুর জন্য কাজ

নিজের ব্যবসার পাশাপাশি হ্যাপি পল্লীমা সংগঠন এবং নকশীকাঁথা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যেখানে নারী ও শিশুদের উন্নয়নে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তাঁর লক্ষ্য কেবল নিজের সফলতা নয়— বরং অন্য নারীদেরও স্বাবলম্বী করে তোলা।

চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এগিয়ে চলা

প্রথম দিকে নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও হ্যাপি কখনো হার মানেননি। পরিবার, সহকর্মী এবং কারিগরদের সহায়তায় তিনি নিজেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা স্থানীয় বাজারে পরিচিত একটি নাম, আর তিনি নিজেও নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

আগামী দিনে আরও নারী উদ্যোক্তাকে পাশে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান তিনি। তাঁর স্বপ্ন— নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে সফলতার গল্প লিখবে।

হ্যাপি বিশ্বাস করেন, সাহস, সততা এবং অধ্যবসায় থাকলে কোনো বাধাই অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। তাঁর মতো নারীরা প্রমাণ করে দিচ্ছেন— যদি ইচ্ছা দৃঢ় হয়, তবে সাফল্য শুধু সময়ের অপেক্ষা।

প্রস্তুত করেছেন: [রিফাত আমিন]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা