গোপালগঞ্জের মারজুক রাসেলের অজানা গল্প ও সংগ্রামমুখর পথচলা
লুৎফর শিকদার গোপালগঞ্জ
লুৎফর সিকদারের কলমে উঠে এসেছে জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী, গীতিকার ও অভিনেতা মারজুক রাসেলের শৈশব ও সংগ্রামের অজানা কিছু অধ্যায়। গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া মারজুকের ছেলেবেলা কেটেছে দৌলতপুরের পাটকলের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের কোয়ার্টারে। ক্লাস সিক্সে মাদ্রাসায় ভর্তির পর পিছিয়ে পড়া ও শ্রেণী বৈষম্যের শিকার হয়ে তিনি হীনম্মন্যতায় ভুগলেও নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের লেখা তাঁকে যুগিয়েছে শক্তি।
খুলনার ‘জনবার্তা’ পত্রিকায় প্রথম কবিতা প্রকাশের পর থেকেই লেখালেখিতে তাঁর হাতেখড়ি। ১৯৯৩ সালে অনাহারী চেহারায় কবি শামসুর রহমানের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে খাবার ও প্রেরণা পাওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয় তাঁর ঢাকায় টিকে থাকার কঠিন লড়াই। তোপখানা রোডের গ্যারেজে থাকা, সিনেমার টিকিট বিক্রি বা ফুটপাতে হকারির মতো কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়েও তিনি সৃষ্টিশীলতা ধরে রাখেন।
সাংবাদিক ফারুক মামুনের হাত ধরে সংবাদপত্রে কাজ শুরুর পর সঞ্জীব চৌধুরীর পরামর্শে তিনি দেখা করেন রকি লিজেন্ড জেমসের সঙ্গে। জেমস তাঁর গান দেখে বলেন, হবে, তোর হবে। তোর মধ্যে আগুন আছে। এরপর ‘লেইস ফিতা লেইস’ অ্যালবামের হাত ধরে শুরু হয় তাঁর সফল গীতিকার জীবন।
তিনি জেমস, আসিফ ও পান্থ কানাইয়ের মতো শিল্পীদের জন্য অসংখ্য হিট গান উপহার দেন। যেমন—
মীরা বাঈ” ও “পত্র দিও”
“আমি তো প্রেমে পড়িনি” (ব্যাচেলর)
“গোল্লা” ও “তুমি হারিয়ে যাওয়ার সময়”
গান ও কবিতার পাশাপাশি তিনি জনপ্রিয় বেশ কিছু জিঙ্গেল লিখেছেন। যেমন “সুন্দরীতমা,”সূর্য বলে আমার রোদে চুল শুকাতে আসো না” এবং “ভেজা হাওয়াই ভিজে যাওয়া”। পরবর্তীতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মাধ্যমে অভিনয়ে এসে তিনি মিডিয়ায় নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।
প্রতিকূলতা জয় করে এভাবেই মারজুক রাসেল আজ বাংলাদেশের বিনোদন জগতের এক অনন্য সৃষ্টিশীল প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
মারজুক রাসেলের কোন গানটি বা নাটকটি আপনার ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে?