নাটোরের সরকারি কর্মকর্তা বদলি এবং বিএনপি নেতার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা
নাটোর প্রতিনিধি সজিব আলী
ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে অনভিপ্রেত ঘটনার জেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর পরদিনই নাটোরের জেলা প্রশাসক, লালপুরের ইউএনও এবং রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগগুলো তিন দিন অতিবাহিত হলেও থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।
গত ১২ আগস্ট লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। দায়েরকৃত অভিযোগে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা এজাহার হিসেবে রুজু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইফতে খায়ের জানান, এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে তা জানানো হবে। অন্যদিকে, নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানিয়েছেন যে বিষয়টি সম্পর্কে তাঁকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে গত ১৯ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ। ওই অনুষ্ঠানে তিনি লালপুর ইউএনও কার্যালয় ভাঙচুর ও সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনাটি ‘মীমাংসা হয়েছে’ বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদে গণমাধ্যমকর্মীদের বিক্ষোভ সমাবেশের সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচিত মন্ত্রীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রতি সতর্কতাও ব্যক্ত করেন।
আসাদুজ্জামান আসাদের এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহলের একাংশের মতে, এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যমের স্বাধীন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে এবং সাংবাদিক হেনস্তার প্রতিবাদকে নিরুৎসাহিত করার শামিল। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলেও বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে, থানায় অভিযোগ দায়েরের পরের দিনই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পৃথক আরেকটি আ대에 লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
নাটোরের জেলা প্রশাসক ও লালপুরের ইউএনওকে বদলি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য—এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নাটোরের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।