বগুড়ায় কথিত জাপা কার্যালয় দখলের অভিযোগ বিভ্রান্তিকর
জুলাই আহতদের কোনো দখলদারিত্ব নেই—আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা
মোঃ সিমান্ত তালুকদার
রায়গঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ।
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয় দখল ও তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রতিনিধিরা।
আহতদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কের যে স্থানটিকে ‘জাপার কার্যালয়’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেখানে জাতীয় পার্টির কোনো সাইনবোর্ড, নামফলক বা অফিস থাকার লিখিত কিংবা দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। স্থানটি একটি ভাঙাচোরা পরিত্যক্ত ঘর, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য চলছিল এবং এখনো চলছে।
তাঁরা আরও জানান, ওই স্থানে কোনো ধরনের দখলদারিত্ব করা হয়নি। কেবলমাত্র হ্যাঁ–না ভোটের একটি সাময়িক ক্যাম্পেইন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল, যা সংশ্লিষ্টদের অবগতিতেই করা হয়। তবে পরবর্তীতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জেলা প্রশাসকের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করে আহতরা নাকি জায়গাটি দখল করেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান আহতদের ডেকে উক্ত স্থানে না বসার জন্য অনুরোধ জানান। প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে আহতরা সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে সরে যান। ফলে ‘তালা না খোলা’ বা ‘দখল অব্যাহত’ থাকার যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ বিষয়ে মো. চান্দাইল বলেন,
“ওখানে কোথাও জাতীয় পার্টির অফিস লেখা নেই। আহতরা কখনো কোনো দখল করে না। এখানে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।”
এদিকে জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোনিয়া আক্তার পাখি।
তিনি বলেন,
“এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নিলে জুলাইদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। হাজারো রক্তের বিনিময়ে জুলাই এসেছে—এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
এ বিষয়ে আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে মো. নাহিদুলজ্জামান বলেন,
“আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—আহত জুলাই যোদ্ধারা কখনো দখলদার নয়। আমাদের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ সত্যের অপলাপ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার। জুলাই আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা একটি গভীর ষড়যন্ত্র।”
তিনি আরও বলেন,
“এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব এবং জুলাই আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারীদের আইনের আওতায় আনতে বগুড়া জেলা প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি।”
আহত জুলাই যোদ্ধাদের দাবি—
‘দখল’ শব্দ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জুলাই আন্দোলনের সুনাম নষ্ট করার অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।