পিঠা ব্যবসা জমজমাট রায়গঞ্জে
মোঃ সিমান্ত তালুকদার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)
শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার, রাস্তার মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে পিঠার স্টল। ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, তেলপিঠা—সবাইকে ছাড়িয়ে এ বছর সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ডিম-মাংসের ফিউশন পিঠা, যা তরুণদের কাছে এখন এক নতুন স্বাদের অভিজ্ঞতা।
স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের পর থেকেই দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ এবং পরিবার নিয়ে বেড়াতে বের হওয়া ক্রেতারা বিভিন্ন স্টলে থেমে তাজা গরম পিঠা উপভোগ করেন। রাস্তার ধারের দোকানে ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার ঘ্রাণ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে পরিবেশ।
পিঠা ব্যবসায়ী আশরাফুল জানান, শীতকাল শুরু হওয়া মাত্রই তাদের ব্যবসায় নতুন গতি আসে। তিনি বলেন, “শীত এলেই পিঠার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রতিটি পিঠা মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করি। দাম কম রাখায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি থাকে।” তিনি আরও জানান, নতুন স্বাদের ফিউশন পিঠা চালু করার পর থেকে বিক্রি আরও বেড়েছে।
ক্রেতা সাজেদুল রানা, মোহাম্মদ আকাশ ও কোরবান আলী বলেন, পিঠার স্বাদ ভালো এবং দামও সাশ্রয়ী হওয়ায় তারা প্রায়ই এ স্টলগুলো থেকে পিঠা কিনে খান। তাদের মতে, শীতের সন্ধ্যায় গরম পিঠার বিকল্প নেই। বিশেষ করে নতুন ধরনের ডিম-মাংস পিঠা যুবসমাজের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, শুধু স্বাদের আকর্ষণ নয়, শীতকালীন এই পিঠা ব্যবসা এলাকার বহু মানুষকে মৌসুমি আয়ের সুযোগ করে দেয়। ফলে পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা হয়।
শীতের ভাপা পিঠা, চিতইয়ের ঐতিহ্য আর নতুন স্বাদের ফিউশন—সব মিলিয়ে রায়গঞ্জের পিঠা এখন শীতের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।