আশাশুনিতে মাদরাসার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত: অনিয়মের অভিযোগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার চেঁচুয়া মদিনাতুল উলুম ফাজিল মাদরাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রতিবাদ ও অনিয়মের অভিযোগের মুখে কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার (৪ অক্টোবর ২০২৫) সকালে। মাদরাসায় নয়টি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু পরীক্ষার দিন সকাল থেকেই স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা মাদরাসার সামনে জড়ো হয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা অভিযোগ করেন, কমিটি ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গোপনে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার চক্রান্ত করছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা “নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করো” স্লোগান দিয়ে মাদরাসার মূল ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা মাদরাসায় প্রবেশ করতে চাইলে তারা বাধা দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন আলোচনা করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, “স্থানীয়দের বাধার কারণে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি শান্ত হলে নতুন তারিখে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।”
এদিকে আশাশুনি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওয়াদুদ রহমান বলেন, “দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন এলাকা শান্ত রয়েছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও সদস্যরা আগেই প্রার্থীদের নাম ঠিক করে রেখেছিলেন। একজন চাকরিপ্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিটি পদের জন্য টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাই আমরা এই ভুয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসা কমিটির সভাপতি হাফেজ মাহমুদুর রহমান বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন।”
এ ঘটনায় আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফারুক হোসেন জানান, “মাদরাসার নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে অনিয়মের কোনো ভিত্তি আছে কিনা।”
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনাটি কেবল একটি মাদরাসার নয়, বরং সারাদেশে মাদরাসা নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার একটি বড় উদাহরণ। প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদারকি ছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য রোধ করা সম্ভব নয় বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।