হাতিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের টিকাদানে অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা, অসতর্কতা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের রূঢ় আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে শিশুদের শারীরিক ক্ষতি ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের টিকাদান কক্ষের সামনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষমাণ শিশুদের দ্রুততার সঙ্গে টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স লিজা আক্তার (এসএসএন) অনেক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও অসতর্কতার সঙ্গে টিকা প্রয়োগ করছেন এবং শিশুদের মায়েদের সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করছেন।
এ সময় ঘটনাস্থলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে ওই নার্স সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। পরে সহকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হেড ক্লার্ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, টিকা দেওয়ার সময় সামান্য রক্তপাত বা ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে। তবে নার্সদের অতিরিক্ত সমালোচনা করলে তারা বদলি হয়ে যেতে পারেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, টিকা প্রয়োগের সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও নিয়ম-কানুন মানা হচ্ছে না। ফলে শিশুদের অতিরিক্ত কান্না, ব্যথা এবং অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাতের ঘটনাও ঘটছে।
পৌর এলাকার বাসিন্দা মর্জিনা বেগম বলেন, আমার শিশুকে খুব দ্রুত ও জোরে টিকা দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই সে কাঁদছে এবং রক্তও বের হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন শুন্যেরচর গ্রামের আরজিনা, সোনাদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরচেঙ্গা গ্রামের সেলিনা আক্তার, চরচেঙ্গা গ্রামের মুক্তা বেগম ও লক্ষ্মীদিয়া গ্রামের শাহনাজ।
নলচিরা গ্রামের হালিমা খাতুন অভিযোগ করেন, টিকা দেওয়ার আগে বা পরে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কীভাবে যত্ন নিতে হবে তা না জানায় আমরা দুশ্চিন্তায় পড়েছি।
বুড়িরচর এলাকার রোকেয়া আক্তার বলেন,
টিকা দেওয়ার পর কিছুক্ষণ বসে থাকার কথা থাকলেও আমাদের দ্রুত চলে যেতে বলা হয়েছে। পরে বাসায় গিয়ে শিশুর জ্বর আসে, তখন আমরা বিপাকে পড়ি।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, টিকা দেওয়ার পর শিশুদের নির্দিষ্ট সময় পর্যবেক্ষণে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, দৈনিক টিকা রিপোর্ট (শিশু) হাজিরা খাতা যাচাই করে দেখা গেছে, অভিযুক্ত টিকাদানকারীসহ কয়েকজন কর্মী নিয়মিত স্বাক্ষর করেননি, যা দায়িত্বে অবহেলার ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে, একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মানসী রানী সরকার বলেন, “অভিযুক্তদের আগেও সতর্ক করা হয়েছে। এবারও তাদের ডেকে প্রয়োজনীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টিকাদান কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও মানবিকতা ফিরিয়ে আনা হোক, যাতে শিশুদের নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যায়