শৈত্যপ্রবাহে বিপন্ন নীলফামারী ডিমলা : মাঠে মরছে কৃষকের স্বপ্ন, স্কুলে যাওয়া দুঃসাধ্য, বিপর্যস্ত জনজীবন
আব্দুল হালিম ডিমলা উপজেলা প্রতিনিধি
৯ই জানুয়ারি ২০২৫ ইং শুক্রবার।
নীলফামারীর ডিমলাসহ তিস্তা পাড়ের জনপদে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। গত কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ঘন কুয়াশার চাদরে প্রকৃতি ঢাকা থাকায় চরম সংকটে পড়েছে এই অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা ও জনজীবন। আজ ডিমলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০°C।
ঘন কুয়াশায় ঢাকা আলু ক্ষেত; পচন রোগের হাত থেকে ফসল রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষক। —
ফসলের মাঠে হাহাকার
তীব্র শৈত্যপ্রবাহে এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আলু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ঘন কুয়াশার কারণে আলুর ডগা ও পাতায় পচন (লেট ব্লাইট) দেখা দিচ্ছে। কেবল আলু নয়; বোরো ধানের চারা, তুলা ও ভুট্টার চারাগুলোও ঠান্ডায় লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে।ডিমলার কুঠিপাড়ার চাষি মো. আলতাফ হোসেন আর্তনাদ করে বলেন, "বাবা, অনেক আশা করে ধার-দেনা করে আলু লাগাইছিলাম। কুয়াশায় সব শেষ হইয়া যাইতেছে। আলু পইচা গেলে লোন শোধ করমু ক্যামনে আর পোলাপানের মুখে খাবার দিমু?
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব ওমর ফারুক (এস এ এও) ডিমলা, নীলফামার। তিনি
বলেন:
"তীব্র শীত ও দীর্ঘ সময় কুয়াশা থাকা আলুর 'লেট ব্লাইট' বা মড়ক রোগের জন্য অনুকূল পরিবেশ। আমরা কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শনের পরামর্শ দিচ্ছি। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আলু রক্ষায় অনুমোদিত ছত্রাকনাশক নির্ধারিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। এছাড়াও বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং বীজতলায় জমিয়ে রাখা পানি সকালে বের করে দিয়ে নতুন পানি দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সচেতন হলে এই ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।"
শিক্ষা জীবনে শীতের কোপ
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ঘন কুয়াশায় সকালে হাত বাড়ালেও কিছু দেখা যাচ্ছে না, তার ওপর বইছে হিমেল হাওয়া। এই বৈরী আবহাওয়ায় সাইকেল চালিয়ে বা হেঁটে দূর-দূরান্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ডিমলা উপজেলার মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন ও গবাদি পশু
শ্রমজীবী মানুষের আয় বন্ধের পথে, গরম কাপড়ের অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পাশাপাশি গবাদি পশু নিয়ে খামারিরা দিশেহারা। ঠান্ডাজনিত রোগে গবাদি পশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে। চটের বস্তা আর কাঁথা দিয়ে ঢেকেও পশুকে শীত থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা:
জনাব হাসান আল বান্না বলেন,
"কুয়াশা আলুর মড়ক রোগের জন্য খুবই বিপজ্জনক। আমরা কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, অনুমোদিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করা এবং বোরো বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।"
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা:জনাব আসাদুজ্জামান
(ডি ভিএম ভেটেনারি সার্জন
ডিমলা প্রাণী সম্পদ অফিস) তিনি বলেন,
"শীতে গবাদি পশুর নিউমোনিয়া ও খুরা রোগের ঝুঁকি বাড়ে। গোয়ালঘরে যাতে সরাসরি বাতাস না ঢোকে সেজন্য চটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে এবং পশুকে কুসুম গরম পানি পান করাতে হবে।"
এক নজরে আজকের পরিস্থিতি
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ১০°C (ডিমলা)।
ক্ষতিগ্রস্ত ফসল: আলু, ধান, তুলা ও ভুট্টা।
সংকট: শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি হ্রাস ও নিম্নবিত্তের কর্মহীনতা।২৪ ঘন্টায় এরকম আবহাওয়া থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিমলা আবহাওয়া অফিস।