সুন্দরগঞ্জের ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বদলি, নিয়োগ নিয়ে আলোচনার মধ্যে পদায়ন
মোঃ মহিবুল্লাহ মেহেদী
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলিকে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিয়োগ শাখায় সিনিয়র সহকারী সচিব (সংযুক্ত) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
গত ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়।
তবে বদলির প্রজ্ঞাপনে ঈফফাত জাহান তুলির বদলির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এর মধ্যেই সুন্দরগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোধের ঘটনা সামনে আসায় ইউএনওর বদলি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

গত ১০ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে ১১ আগস্ট তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকে তালা দেওয়া হয়। এতে কয়েকটি সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা নিয়োগের ফল বাতিলসহ ইউএনও ও সমাজসেবা কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচিতে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে যথাযথ নিয়ম ও স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগও করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি। তাঁর দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। ছয়টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডের মাধ্যমেই প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে।
১২ আগস্ট সকালে উপজেলা পরিষদ ও সমাজসেবা কার্যালয়ের ফটকের তালা খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। একই দিন বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইউএনওর প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর নিয়োগ ইস্যুতে বিএনপির পক্ষ থেকে নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি।
এদিকে, ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলির বদলি সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক বিরোধ, অভিযোগ বা আন্দোলনের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁর বদলির সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা থাকলেও সরকারি নথিতে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।