দুপুরেও বিদ্যালয়ে নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী! কারন দর্শানোর নোটিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।
মীর শাহীন
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা)
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দুলারহাট থানার মুজিবনগর ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী অফিসার রোমানা আফরোজ।
এর মধ্যে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে কোনো শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। অন্যদিকে, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রায়ই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
নির্বাহী অফিসারের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৮২ নম্বর সিকদারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে গিয়ে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ের চাবি পাশের একটি বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না। এ কারণে কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পাশের মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের পরিস্থিতির অভিযোগ শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, চরলিউলিন চেয়ারম্যান বাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আরও দুই শিক্ষক প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন। তাঁদের বিরুদ্ধে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি, যথাসময়ে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মুজিবনগর ইউনিয়নের এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের প্রকৃত পরিস্থিতি কী, শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন কি না এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম কতটা ব্যাহত হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।