জলঢাকায় ১৩ বছরের নাবালিকার বিয়ে ঘিরে তোলপাড়: থানায় ৮ জনের বিরুদ্ধে এজাহার, বরের মার ক্ষোভ ও গ্রামের মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আব্দুল হালিম নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকায় মাত্র ১৩ বছর বয়সী এক নাবালিকার বাল্যবিবাহকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত ৬ আগস্ট নিলফামারীর জলঢাকা খারিজা গোলনা ইউনিয়নের বাসিন্দা নূর সামাদের মেয়ে মোছা: মুক্তা আক্তারের সাথে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ঠ্যাংঝাড়া এলাকার মোছা: লিপি বেগমের ছেলে মোঃ জীবন আহাম্মদের বিয়ে গোপনে ও তাড়াহুড়ো করে সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও গণঅবরোধ:
বিয়ের তিন দিন পর১০ এ আগস্ট বর কনের বাড়িতে 'আটুরি' (মেহমানদারি) খেতে আসলে বিষয়টি পুরো এলাকায় জানাজানি হয়। বর জীবন আহাম্মদ বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার তথ্য উঠে আসলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বর জীবন ও তার দুলাভাই কনে মুক্তাকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে এলাকা থেকে চম্পট দেন। তবে বরপক্ষের সাথে আসা বরের ভাই, নানি ও ৯ বছরের এক শিশুসহ ৩ জনকে ঘটনাস্থলে আটকে রাখে উত্তেজিত কিছু এলাকাবাসী।
ঘটক চক্রের প্রতারণা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ:
কনের চাচা সলিমুদ্দিনের অভিযোগ, “আমার সরলসোজা ভাই ও তার নাবালিকা মেয়েকে টাকার লোভে অসাধু ঘটক চক্র গোপনে এই বিয়ের আয়োজন করে। বরের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও পরিবারের আসল তথ্য আমাদের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।” অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বরের মা মোছা: লিপি বেগমের বিরুদ্ধে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন।
প্রশাসনের উপস্থিতি ও বিফল সালিশ:
আটক ৩ জনকে উদ্ধারে ডিমলা ও জলঢাকা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহানুর ইসলাম, রঞ্জু মিয়া, বিলাতু মিয়া, এমদাদুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ এলাকাবাসী । ইউপি সদস্য জাহানুর ইসলামের জিম্মায় আটক ব্যক্তিদের গোলনা ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য সালিশের জন্য নেওয়া হলেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি জলঢাকা থানায় যায়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার আগেই থানা ভিতর চত্বর থেকে সুযোগ বুঝে সটকে পড়ে বরপক্ষ।
বরের মার দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য ও ভুক্তভোগী বাবার এজাহার:
এদিকে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বরের মা লিপি বেগম বিষয়টিকে ভিন্ন মোড় দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, “আমার ছেলের সাথে যদি মুক্তা বানু ঘর-সংসার না করে, তবে আমি নিজেই অন্য কোথাও তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেব।”
ঘটনায় ক্ষুব্ধ ও দিশেহারা কনের বাবা নূর সামাদ জানান, “বিয়ের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। সুযোগ নিয়ে আমার সরলতার সুযোগে এই সর্বনাশা কাজ করা হয়েছে।” ন্যায়বিচারের আশায় ভুক্তভোগী বাবা বাদী হয়ে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে জলঢাকা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
গ্রামবাসীর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও শঙ্কা:
নাবালিকা ও অসহায় দরিদ্র পরিবারের মেয়েকে এভাবে প্রতারণা করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় গ্রাম জুড়ে বইছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। তবে একটি অসৎ চক্রের হাত থেকে নাবালিকা মেয়েটির ভবিষ্যৎ রক্ষায় এলাকাবাসী যে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তার প্রশংসা করছেন অপরদিকে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মুক্তা বানুর ধনষ্ট পরিবারে বিবাহ হওয়ায় প্রশংসিত হয়েছে স্থানীয় কিছু সাধারণ এলাকাবাসীর বর্তমানে মুক্তা আক্তার তার চাচার হেফাজতে রয়েছে, তবে তার ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেপরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিন্তু বিবাহের ১২দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত বা সমাধানের আলামত পাওয়া যায়নি।